Breaking

Tuesday, November 20, 2018

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা—সরল কথা-পাঁচ

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা—সরল কথা-পাঁচ
 ফান্ডিং ও অন্যান্য প্রসঙ্গে অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ইমেইল পাঠাতে হয়। দেখা যায় অধ্যাপকদের ইমেইল করেছেন, কিন্তু তারা উত্তর দিচ্ছেন না। উত্তর দিলেও বলছেন, কোনো ফান্ড নেই, পজিশন নেই। এটা খুবই সাধারণ চিত্র। এমনটি অনেকের ক্ষেত্রেই হয়। কারণ আমরা যে ইমেইল পাঠাই সেটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক হয় না। তাই আজকের পর্বে আলোচনা করব কী করে ইমেইল লিখবেন। সতর্কতার সঙ্গে ইমেইল পাঠালে, সঠিক ফিডব্যাক পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

ক. গণহারে সকল অধ্যাপকদের একই মেইল পাঠানো বন্ধ করুন। অধ্যাপকেরা এসব বিষয়ে খুবই অভিজ্ঞ। কপি করা মেইল সহজেই বুঝতে পারেন। ফলে সময় নষ্ট করে এসব মেইল তারা পড়েন না।

খ. ডিয়ার স্যার (Dear Sir), হ্যালো প্রফেসর ইত্যাদি শব্দ ব্যবহারে সম্বোধন না করে তার নামের শেষাংশ উল্লেখ করুন। যেমন, ডিয়ার প্রফেসর ম্যাটসন। এতে করে তিনি বোঝেন যে আপনি তার সম্পর্কে জানেন। তার সঙ্গে কাজ করার জন্য আপনার আগ্রহ আছে।
গ. মেইলে কখনো সালাম, নমস্কার ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। গুড মর্নিং, গুড আফটার নুন ইত্যাদি উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকুন।

ঘ. আপনার প্রফেশনাল/প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল আইডি থাকলে সেটা ব্যবহার করুন। জিমেইল, ইয়াহু ইত্যাদি আইডি থেকে পাঠানো মেইল অনেক সময় স্প্যাম বক্সে চলে যায়। সেগুলো তারা খুলে দেখেন না।

ঙ. যে অধ্যাপকের গ্রুপে আবেদন করবেন, সেই গ্রুপের গবেষণার বিষয়বস্তু (Research Area) সম্পর্কে জানুন। সেই গ্রুপ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক আর্টিকেল পড়ুন। অধ্যাপক কী নিয়ে কাজ করেন সেটা ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন।

চ. অনেক সময় অধ্যাপকের সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্টিকেল পড়ে তাকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। আর ধন্যবাদ দেওয়ার মাধ্যমেই গবেষণা কাজটির প্রশংসা করে দু-একটি প্রশ্ন (যৌক্তিক ও আকর্ষণীয়) করতে পারেন। উল্লেখ করতে পারেন যে, আপনি এই বিষয়টি ভালো বোঝেন ও এ বিষয়ে কাজের আগ্রহ আছে। এভাবেও যোগাযোগের সূচনা করা যেতে পারে।

ছ. রিসার্চ প্রপোজাল (Research Proposal) পাঠাতে হলে, গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রকাশিত আর্টিকেল পড়ে সেই আলোকে প্রপোজাল লেখা উত্তম। প্রপোজালে গুরুত্বপূর্ণ ডায়াগ্রাম, ফিগার ব্যবহার করতে হবে। অধ্যাপক যেন একনজরে বুঝে যান আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছেন।

জ. মেইল আকারে বড় লিখবেন না। মেইলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংযুক্ত (attached) করে দেওয়াই উত্তম। ফাইলের জন্য পিডিএফ ফর্ম ব্যবহার করুন।

ঝ. আপনার পাবলিকেশন থাকলে, সিভিতে সেগুলোই আগে উল্লেখ করুন। পাবলিকেশনের সঙ্গে DOI (Digital Object Identifier) নম্বর দিন। এতে করে আর্টিকেল খুঁজে পাওয়া খুব সহজ (dx.doi.org/)।

ঞ. একজন অধ্যাপক আপনার সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে চাইবেন। ফলে এ জন্য রেফারেন্স লেটার গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে রেফারেন্স লেটার হয় গোপনীয় (Confidential)। আমাদের দেশে সবাইকে প্রায় একই ধরনের রেফারেন্স লেটার লিখে দেওয়া হয়। তুলনামূলক পরিচিত গবেষকের কাছ থেকে রেফারেন্স লেটার নেওয়ার চেষ্টা করুন। যারা লেটার দেবেন তাদের বলুন আপনার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু উল্লেখ করতে।

ট. আপনার থিসিস থাকলে সেই থিসিস থেকে একটি অ্যাবস্ট্রাক্ট তৈরি করুন (এক-দুই পৃষ্ঠা)। বাংলাদেশের এমএস থিসিসের ভলিউম, পৃথিবীর বহু দেশের পিএইচডি থিসিসের কয়েক গুণ। একজন অধ্যাপকের এই থিসিস পড়ার সময় নেই। আমার এমএস থিসিস থেকে রসায়নের বিখ্যাত এক জার্নাল JACS (Journal of the American Chemical Society)-এ আর্টিকেল প্রকাশ করেছি। সেই থিসিসই আমার অধ্যাপক, একবারের বেশি পড়েননি! অধ্যাপক যদি চান, তাহলেই পুরো থিসিস পাঠান।

ঠ. মেইলের সাবজেক্ট হিসেবে হ্যালো/কনটাক্ট এমন শব্দ ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট করে সাবজেক্ট লিখুন। ইমেইলের ভাষার ব্যাপারে অধিক সতর্ক থাকা ভালো। বাক্যে বানান ও ব্যাকরণগত কোনো ভুল যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

দ্রষ্টব্য এটি শুধুমাত্র প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য যারা সত্যিই বিদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। আবেদনকারীরা দৃঢ়ভাবে আমাদের অফিসে :
 সরাসরি যোগাযোগ বা মৌলিক তথ্যের জন্য ফোন 01911878274 এ সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়। যদি আপনি আরও যেতে চান তবে পাসপোর্ট সহ আপনার সমস্ত অ্যাকাডেমিক নথির সাথে আমাদের অফিসে যান।

সানরাইজ এডুকেশন কন্সালটেন্টস
ফোন: 01911878২74; 01707272625
ইমেইল: info@sunrise-bd.net
ওয়েবসাইট: www.sunrise-bd.net

No comments:

Post a Comment